বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পতেঙ্গায় ৫ লাখ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ ঢাকায় ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ মধু গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম কমলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নরওয়ের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংকের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন  জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কর্মধারা আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর পিস ইন্টারন্যাশনাল ট্টাভেলস্ এজেন্সি শুভ উদ্বোধন

১২০ কোটি নয়, আড়াই শ’ কোটি টাকা সরিয়েছে বিসিবি

Reporter Name / ১৩৮ Time View
Update : শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

নিউজ জনতা ডেস্ক:

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে জড়িয়ে টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা।

বিগত কিছু দিন ধরে ক্রিকেটপাড়ায় আলোচনায় বিসিবি’র শত কোটি টাকা নয়-ছয়ের গুঞ্জন। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করে ব্যাংক থেকে ১২০ কোটি টাকা সরিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি।

এবার জানা গেল সংখ্যাটা আরো বেশি। প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকা নড়াচড়া হয়েছে। তবে সেটা আড়ালে কিংবা বিসিবি সভাপতির একান্ত হস্তক্ষেপে নয়; সর্বস্মমতিক্রমে এক ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে রাখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকে।

বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে জড়িয়ে টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতীয় গণমাধ্যমের একটি অংশে বোর্ডের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন বিসিবি’র নজরে এসেছে। বিসিবির মতে এসব প্রতিবেদন ভুল তথ্যভিত্তিক এবং বোর্ড ও এর সভাপতি ফারুক আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে এফডিআরের টাকা স্থানান্তরের ব্যাখ্যাও দিয়েছে বোর্ড। বিসিবি বলেছে, ‘গত ২০২৪ সালের আগস্টে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ফারুক আহমেদ বিগত বছরগুলোর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণআন্দোলনের পর দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বোর্ডের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেন।’

আরো বলা হয়েছে, ‘এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিসিবি তার ব্যাংকিং সম্পর্কগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করে এবং কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ‘গ্রীন’ ও ‘ইয়েলো’ জোনভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথেই বোর্ড আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিসিবি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলো থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে এবং এর মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা গ্রীন ও ইয়েলো জোনভুক্ত ব্যাংকগুলোতে পুনঃবিনিয়োগ করে। অবশিষ্ট ১২ কোটি টাকা বিসিবির বিবিধ পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।’

বিসিবি জানায়, ‘প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বোর্ড সভাপতি কোনো একক সিদ্ধান্তবলে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের অজ্ঞাতে ব্যাংক পরিবর্তনের অথবা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশ প্রদান করেন না। পার্টনার ব্যাংকগুলোর সাথে বিসিবির আর্থিক বিষয়ক লেনদেনে স্বাক্ষরপ্রদানকারী হিসেবে দু’জন বোর্ড পরিচালক আছেন। এ দু’জন হলেন বোর্ডের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা ও টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম। বিসিবি সভাপতি এসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাক্ষরদাতা নন।’

‘বিসিবি অবগত যে, কিছু সুবিধাভোগী মহল এবং ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী, যারা ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরেও সক্রিয়, বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিসিবির আর্থিক নিরাপত্তা আরো জোরদার করার এটিও অন্যতম কারণ। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত বিসিবি তার অর্থ ও স্থায়ী আমানত সংরক্ষণের দায়িত্ব ১৩টি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকের হাতে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিসিবির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ প্রতিযোগিতামূলক মুনাফা প্রাপ্তির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বিসিবির স্থায়ী আমানত থেকে দু’ থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা হয়েছে।’

‘গত ছয় মাসে বিসিবি তার বর্তমান তিনটি ব্যাংকিং অংশীদারের কাছ থেকে আনুমানিক ১২ কোটি টাকার স্পনসরশিপ পেয়েছে। এছাড়াও, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিসিবির অংশীদার ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে, যা এই আর্থিক সম্পর্কগুলোর দৃঢ়তা ও গভীরতা নির্দেশ করে।’

‘বিসিবি সর্বোচ্চ মানের আর্থিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রকৃত ও তথ্যভিত্তিক উৎস থেকে তদন্ত ও পর্যালোচনাকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি, বোর্ড গণমাধ্যমকে ভিত্তিহীন অথবা বাংলাদেশ ক্রিকেট ও এর সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমন কোনো ভুল তথ্যসম্মলিত প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছে।’ সুত্র: নয়া দিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর