যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করতে কোন পথে এগুতে পারে চীন-রাশিয়া
নিউজ জনতা ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত চীন ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ভুল নীতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংকে তাদের নিজস্ব স্বার্থ এগিয়ে নেয়ার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করার কারণ হয়ে উঠছে।
মার্কিন দৈনিক দ্য হিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার সক্ষমতার উপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে এক নিবন্ধে বলেছে, মস্কো এবং বেইজিং ট্রাম্পের দাম্ভিকতাকে তাদের সুবিধার কাজে ব্যবহার করবে এবং ট্রাম্পকে খেলতে বাধ্য করবে।
দ্য হিল পত্রিকা লিখেছে যে ট্রাম্প আমেরিকার অর্থনৈতিক অংশীদার এবং মিত্রদের ‘লোভী এবং সুবিধাবাদী‘ বলে কটাক্ষ কোরে নাটকীয়ভাবে শুল্ক বৃদ্ধির ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন এবং সম্প্রতি ‘অর্থনৈতিক মুক্তি দিবস‘ ঘোষণার সময় বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, বন্ধুরা প্রায়ই শত্রুদের চেয়ে অনেক খারাপ।‘ ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, ‘আমেরিকাকে ছিঁড়ে ফেলার জন্যই ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছিল।‘
ইতিমধ্যে ট্রাম্প এই পরিস্থিতির দায় বিদেশী সরকারগুলোর উপর নয় বরং পূর্ববর্তী মার্কিন সরকারগুলোর উপর চাপিয়েছেন। তার আলোচনার দক্ষতার ব্যাপারে গর্ব করে বলেছেন যে আলোচনার শুরুতে চরম অবস্থান গ্রহণ করে তিনি অন্য পক্ষকে ভারসাম্যহীন বা মানসিকভাবে দুর্বল করে দেন যাতে শেষ পর্যন্ত তিনি কম ছাড়ে সন্তুষ্ট হন।
দৈনিক হিলের মতে, ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈদেশিক দ্বিমুখী নীতি বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি অসম্পূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর, ট্রাম্প একতরফাভাবে এর শর্তাবলী পরিবর্তন করেন এবং আরো কঠিন করে তোলেন। বিষয়টা এমন যে তিনি জেলেনস্কিকে তার প্রাথমিক বিরোধিতার জন্য শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন।
ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে ঘোষণা করেন যে তিনি ‘নীতিগতভাবে‘ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আলোচনার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার সময় ক্রেমলিন ধীরে ধীরে ইউক্রেনের নতুন অঞ্চল দখল করতে থাকে। একই সাথে আলোচনার জন্য তার শর্তের তালিকায় নতুন শর্ত যুক্ত করে।
ট্রাম্পের স্বার্থপরতা বা আত্মকেন্দ্রিকতাকে পুঁজি করছে বেইজিং
হিল আরো লিখেছে যে এই খেলাটি নিঃসন্দেহে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; এই প্রতিবেদন অনুসারে, শি জিনপিং এমন ব্যক্তি যিনি শীঘ্রই ‘ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক মেরুদণ্ড‘ পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন।
এই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট প্রথমে ট্রাম্পকে প্রশংসা করেন এবং এই এটাকে বন্ধুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে করতে চান, তারপর পরবর্তী ধাপে, চীনা সামরিক কর্মকর্তারা হুমকি দেবেন যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। অবশেষে ‘শি জিনপিং‘ ঘোষণা করবেন যে তিনি এবং তার ‘আমেরিকান বন্ধু‘ আলোচনার মাধ্যমে এই ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে পারবেন।
সূত্র : পার্সটুডে







