বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পতেঙ্গায় ৫ লাখ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ ঢাকায় ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ মধু গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম কমলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নরওয়ের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংকের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন  জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কর্মধারা আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর পিস ইন্টারন্যাশনাল ট্টাভেলস্ এজেন্সি শুভ উদ্বোধন

মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাসস : আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আগামী ১ মে বেলা আড়াইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেবেন।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি একটি বড় কর্মসূচি এবং একটি বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশে পরিণত করার জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল থেকে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে এবং পহেলা মে পর্যন্ত এই প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের সমাবেশ একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে রূপ নেবে।

 

নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, মহান মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।

 

শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ১৮৮৫ সালে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নেয় যে পরবর্তী বছরের মে মাসে তারা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের আন্দোলন বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পায়।

 

তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা তখন শুধু আন্দোলনই করেনি, বরং সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। যেমন, যেসব কারখানা আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা মেনে নিয়েছিল, শ্রমিকরা সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যই ব্যবহার করত।

 

তার মতে, এটাই সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের শক্তি, সংহতি, ত্যাগ এবং ঐক্য।

 

নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে সাংবাদিকদেরও শ্রমজীবী মানুষের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, তারাও শ্রমিক। তাদের সংগঠনও শ্রম আইনের অধীনে নিবন্ধিত। অতএব, আপনাদের কাছেও আমাদের আহ্বান শ্রমজীবী মানুষের এই গৌরবের দিনটিকে সফল করতে সহযোগিতা করুন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগেই সংগ্রহ করছেন।

 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। কারো কাছে অর্থের জন্য যেতে হচ্ছে না। এটি আমাদের স্বনির্ভরতার একটি উদাহরণ।

 

তিনি বলেন, এটি শ্রমিকদের নিজেদের শক্তিতে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যতে দেশের পরিবর্তনে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের সব দাবি একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের জন্য অনেক ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

 

নজরুল ইসলাম খান জানান, গত বছরের মে দিবসে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে যেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলোই এবারের প্রধান দাবি হিসেবে থাকবে। নতুন কোনো দাবি নয়, বরং পূর্বের অপূর্ণ দাবিগুলোর বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর