বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পতেঙ্গায় ৫ লাখ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ ঢাকায় ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ মধু গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম কমলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নরওয়ের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংকের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন  জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কর্মধারা আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর পিস ইন্টারন্যাশনাল ট্টাভেলস্ এজেন্সি শুভ উদ্বোধন

বাংলাদেশে আশ্রিত ৩৩০ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপিসহ ৩৩০ জন মিয়ানমার নাগরিককে ১১ দিন পর ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের ইনানী নৌ-বাহিনীর জেটিঘাটে নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫০ জনকে জাহাজে তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাড়ে ৭টার দিকে তাদের ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে তাদের কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ করে নেয়া হয় গভীর সাগরে। যেখানে অবস্থান করছে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ। সেই জাহাজের মাধ্যমে স্বদেশে ফেরত যাবেন এসব মিয়ানমার নাগরিক।

বিজিবি মহাপরিচালক আশরাফুল ইসলাম সিদ্দিকী আসার পর বেলা ১১টার দিকে বিজিবি ও বিজিপি’র স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে ১৫০ জনকে জাহাজে তোলা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে বাকিদের উঠানো হবে।

এর আগে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, সকাল ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক। তারপর স্বাস্থ্যপত্র দিয়ে তাদের জাহাজে তোলা হবে। হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে কোস্টগার্ড তাদের নিয়ে গভীর সমুদ্রের জাহাজের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে, বিজিবির মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার মোর্শেদ আলমসহ জেলা প্রশাসহসহ অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তারা।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সরকারি বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে।

রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মি হামলায় টিকতে না পেরে মিয়ানমারের সরকারি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েক শ’ সদস্য এরই মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর জেরে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গোলাতে দু’জন বাংলাদেশী নিহত হয়। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

দু’জন শিশু আর দু’জন নারীসহ ৩৩০ জন পালিয়ে আসা মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের ১২টি বাসে করে বৃহস্পতিবার ভোরে উখিয়ার ইনানী ঘাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে এনে তাদের একটি বড় তাবুতে রাখা হয়েছে। মিয়ানমার বিজিপির যে নয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎধীন ছিলেন তাদেরও এখানে আনা হয়েছে। একটি জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। বেসরকারি মালিকানাধীন কর্ণফুলি জাহাজে করে তাদের বাংলাদেশের জলসীমায় শেষ প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হবে। অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে আসা বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশ সীমান্তে আসার পর পরই বিজিবি তাদের নিরস্ত্র করে। তারপর সরিয়ে নেয় নিরাপদ স্থানে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওপারে ভারী শব্দ বিস্তৃত হয় উখিয়ার থাইংখালী সীমানা পর্যন্ত স্থল মাইন বিস্ফোরণ ও মর্টার শেল থেকে বের হওয়া আগুনের ফুলকিও চোখে পড়ে। এরপর গোলাগুলি থামতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রহমতেরবিল এলাকাতেই এপারে পালিয়ে আসতে দেখা যায় ওপারের সীমান্তরক্ষীদের। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন বিজিপি সদস্য এপারে পালিয়ে আসে। সেদিন দুপুরে ৬৯ জন, এর পরের দিন রহমতেরবিল সীমান্ত ‍দিয়ে ১১৪ জন, তার পরের দিন থাইংখালী হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে আরো ৬৮ জন। সব মিলিয়ে ৩৩০ জন এপারে আশ্রয় নেন।

আমরা জানতে পেরেছি, ৩৩০ জনের মধ্যে ২৮৬ জন হলো বিজিপি, দু’জন সেনাকর্মকর্তা, সিআইডি পাঁচজন, নয়জন রয়েছে স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য, চারজন সামরিক কর্মকর্তা, তারপর দু’জন নারী ও দু’জন শিশু রয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা পাঁচজন সীমান্তরক্ষী বিজিপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সকালে পৌঁছেছেন। কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের উখিয়া ইনানীর ঘাটে আনা হয়েছে।

তাদের আনার সময়ে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরের রোহিঙ্গারা একটি কথা বলছেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ তারা সাত বছর ধরে এখানে অবস্থান করছেন তাদের কেন ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন।

মিয়ানমার থেকে আসা জাহাজটি পাঁচ শ’জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। সে জাহাজটিতে করেই তাদের নিয়ে যাওয়া হবে। হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিজিবির মহাপরিচালক থাকার কথা রয়েছে। প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। ১১ দিন আগে তারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই আশ্রিত মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। ঘুমধুম, তুমব্রু, থাইংখালী রহমতের বিল হোয়াইক্যং এলাকাসহ সীমান্ত পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার সাড়ে ১০টা পযন্ত শান্ত রয়েছে। কোনো প্রকার গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।

এমন এক পরিস্থিতিতে তুমব্রু সীমান্তের ওপার থেকে মর্টার শেলে মারা যায় বাংলাদেশে দু’জন। সীমান্তবাসীদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয় আরাকান আর্মি। তারপরও মাঝেমধ্যে গুলির শব্দ শোনা যায়। souce : nayadiganta


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর