অস্বাভাবিক ছোট হচ্ছে আগামী বছরের বাজেট
নিউজ জনতা ডেস্ক:
আজ রোববার অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। সভাটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবৃদ্ধিকে ‘বলি’ দিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকারকে অস্বাভাবিক ছোট করা হচ্ছে। ফলে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের চেয়েও কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন- চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারিত রয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরের জন্য এই বাজেটের আকার প্রস্তাব করা হয়েছে লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে বাজেটের চেয়ে দুই হাজার কোটি টাকা কম। এর আগে মাত্র একবার বাজেটের আকার আগের বছরের চেয়ে কমিয়ে ধরা হয়েছিল। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আজ রোববার অর্থ উপদেষ্টা নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। সভাটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় পরিকল্পনা, বাণিজ্য, খাদ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেবেন। এটি এই অর্থবছরের দ্বিতীয় কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভা, এর আগে গত বছরের (২০২৪) ২ ডিসেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিন্যান্স কাউন্সিলের বৈঠকে আগামী অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার একটি বাজেটের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ঘাটতি ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আকার ছিল দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।
এখন অর্থবছরের ৯ মাস পেরিয়ে যাবার পর দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন মোটেও সন্তোষজনক নয়। ৯ মাসে বাজেট বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। বছর শেষে বাস্তবায়নের হার ৭০ ভাগের ওপরে ওঠানো সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে রাজস্ব আদায়ের নাজুক অবস্থা এবং বিদেশী সহায়তা কমে যাওয়া বাজেট ছোট করার একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়া হলেও পরবর্তী তা বাড়িয়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ঘরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আগামী মে মাসে বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থ বিভাগের সূত্র জানায় আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করতে পারে ৬.৫ শতাংশ। যা চলতি অর্খবছরে ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে।
আর মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৫.৫ শতাংশ। এর আগে আগামী অর্থবছরে জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৬ শতাংশ। মূলত আগামী বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। আর বাজেট ঘাটতি ধরা হতে পারে ৩.৬২ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে (এনবিআর) সরকারের আয়ের লক্ষ্য হতে পারে ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
জানা গেছে, এনবিআর চাচ্ছে ৫ লাখ টাকার লক্ষ্য নিতে। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই লক্ষ্যমাত্র ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের জন্য চাপ দিয়ে রেখেছে।
এ দিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে। যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। সুত্র: নয়া দিগন্ত







